অনলাইন ডেস্ক
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৩৮ বার পঠিত
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, বিনিয়োগ, চুক্তি এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের জন্য আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে খসড়া অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, সরকারি ভর্তুকির চাপ হ্রাস, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন—এসব উদ্দেশ্য সামনে রেখে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে প্রণোদনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কোম্পানির ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার বা ওপেক্স মডেল।
অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় রয়েছে, তারা ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার বা ক্যাপেক্স মডেলেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, ছাদ ব্যবহারের বিনিময়ে বিদ্যুতের অংশ প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধানের ঘাটতি রয়েছে।
বিশেষ করে ১৫ বছর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ব্যবহারের চুক্তির ক্ষেত্রে এসব বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি।
একইভাবে, ক্যাপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান আইনে সুনির্দিষ্ট বিধানের অভাব রয়েছে।
এ কারণে বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি, বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে পৃথক আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ সৌরশক্তি থেকে পূরণ করা সম্ভব হবে।
তবে এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বিনিয়োগের শর্ত, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের নিয়ম কতটা কার্যকরভাবে নির্ধারণ করা হয়, তার ওপর।
বিদ্যুৎ বিভাগের উল্লেখ করা আরেকটি বিষয় হলো, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-তে এই নির্দিষ্ট ধরনের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সুস্পষ্ট বিধানের ঘাটতি রয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিনিয়োগ বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।
Posted ০৩:০৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন